Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সাধারণ তথ্য

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএডিসি’র দপ্তর সমূহঃ ১ বীজ ও উদ্যান উইং ২ যুগ্ম পরিচালক (বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র) বিএডিসি, চট্টগ্রাম ৩ যুগ্ম পরিচালক (উদ্যান ) বিএডিসি,পটিয়া, চট্টগ্রাম ৪ যুগ্ম পরিচালক (বীজ বিপণন ) বিএডিসি, চট্টগ্রাম ৫ উপ পরিচালক (বীজ বিপণন) বিএডিসি, চট্টগ্রাম ৬ উপ পরিচালক (কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স) বিএডিসি, চট্টগ্রাম ৭ সিনিয়র সহকারী পরিচালক (খামার) বিএডিসি, ঝিলংজা, কক্সবাজার ৮ সহকারী পরিচালক (কৃষি) এফএসসি (ঋঝঈ), বিএডিসি, কক্সবাজার ৯ সার ব্যবস্থাপনা উইং ১০ যুগ্ম পরিচালক (সার) বিএডিসি, চট্টগ্রাম ১১ সেচ উইং ১২ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ক্ষুদ্র সেচ), কালুরঘাট, চট্টগ্রাম ১৩ নির্বাহী প্রকৌশলী (সওকা), কালুরঘাট, চট্টগ্রাম বীজ বিপণন, বিএডিসি, চট্টগ্রাম অঞ্চলঃ অঞ্চলের আওতাধীন জেলা সমূহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার চট্টগ্রাম জেলায় ডিলারের সংখ্যা ৮১ জন কক্সবাজার জেলায় ডিলারের সংখ্যা ১২ জন চট্টগ্রাম জেলায় উপজেলার সংখ্যা ১৭ টি কক্সবাজার জেলায় উপজেলার সংখ্যা ৮ টি চট্টগ্রাম বিভাগে বিএডিসির জেলা ও অঞ্চলওয়ারী বীজ বিক্রয় কেন্দ্রঃ ক্রঃ নং অঞ্চলের নাম জেলার নাম বীজ বিক্রয় কেন্দ্রের নাম ১ ২ ৩ ৪ ১ চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম আঞ্চলিক বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। ককা্রবাজার ককা্রবাজার আঞ্চলিক বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। মোট সংখ্যা ২ টি ২ কুমিলস্না কুমিলস্না কুমিলস্না আঞ্চলিক বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। দাউকান্দি উপজেলা বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। বুড়িং বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। দেবীদার বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। চৌদ্দগ্রাম বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। লাকসাম বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। বরম্নছা বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। চাঁদপুর চাঁদপুর জেলা বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। হাজীগঞ্জ জেলা বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। বিবাড়ীয়া বিবাড়ীয়া জেলা বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। সর্ব মোট ১০ টি ৩ নোয়াখালী নোয়খালী নোয়াখালী আঞ্চলিক বিক্রয় কেন্দ্র। ফেনী ফেনী আঞ্চলিক বিক্রয় কেন্দ্র। লÿীপুর লÿীপুর আঞ্চলিক বিক্রয় কেন্দ্র। মোট সংখ্যা ৩ টি ব্রি:দ্র: অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র (হাতিয়া) বিভাগীয় সর্বমোট ১৫ টি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র, পটিয়া, চট্টগ্রামঃ স্থাপিত ঃ ১৯৬৮ ইং মোট আয়তনঃ ২২.৭৯ একর আবাদী জমিঃ ১৫.৭০ একর ভিত্তি মাতৃবাগানঃ ০.৭৫ একর স্থায়ী ফলদ মাতৃবাগানঃ ৩.৩০একর স্থাপনা ও আবাসিক ভবন এবং অন্যান্যঃ ৩.৯৯একর পুকুর ৩টিঃ ১.৬৫ একর অগভীর নলকূপঃ ২টি গভীর নলকূপঃ ১টি(অকেজো) নার্সারী এলাকাঃ ২.৪১ একর কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স জোন, বিএডিসি, চট্টগ্রাম জোন প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৯৭৬ ইং কমান্ড এরিয়াঃ ২৫৮০.৭৫ একর মোট চুক্তিবদ্ধ চাষীঃ ৮১৫ জন উৎপাদিত প্রধান ফসলঃ আউশ, আমন, বোরো সাগর পাহাড় নদী বেষ্টিত চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএডিসি বীজের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে, একটি পর্যালোচনা। চট্টগ্রাম জেলার মোট আয়তন ৮২৮৩০০ হেক্টর। আবাদী জমির পরিমান - ৪০৯৪১১ হেক্টর। আবাদ যোগ্য পতিত জমি - ১৫২১৩ হেক্টর। লোক সংখ্যা - ৭৩০৬১৫৯ জন। খাদ্য চাহিদা ১১ লক্ষ টন, উৎপাদন ৯ লক্ষ টন, খাদ্য ঘাটতি ২ লক্ষ টন, এক ফসলী জমি ৬২৭৫৬ হেঃ, দুই ফসলী ৩০০৬২০হেঃ, তিন ফসলী ৩০৭৭২ এবং চার ফসলী ৫০ হেঃ । ফসলের নিবিড়তা - ১৮৫%। সাগর পাহাড় নদী বেষ্টিত চট্টগ্রাম কৃষি পরিবেশ অঞ্চল বা Agro Ecological Zone (AEZ) ১৮,২৩,২৪,২৯ এর আওতাধীন। মোট আয়তনের মাত্র ৪৯% জমি চাষের আওতায় আছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের কৃষি পরিবেশ পরিচিতিঃ- কৃষি পরিবেশ অঞ্চল (AEZ) -১৮ চট্টগ্রাম অঞ্চলের অমত্মর্গত। ভূমি মাঝারী উচু (৪৫%) ধরনের । বসত বাড়ী ও জলাভূমির পরিমান ৪৮ ভাগ। মাটি পলিদোঅাঁশ, জৈব পদার্থ মধ্যম, পিএইচ মান ৬.১ থেকে ৬.৮ পর্যমত্ম। রবি মৌসুমে খেসারী, সরিষা ও বোরো প্রধান ফসল। খরিপ-২ মৌসৃুমে সর্বত্র রোপা আমন হয়ে থাকে। কৃষি পরিবেশ অঞ্চল (AEZ)- ২৩ চট্টগ্রাম এবং ককা্রবাজার উপকূল সংলগ্ন এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। এখান কার ভূমি প্রধানত মাঝারী উচুঁ ৪৩%, উচুঁ (১৭%) এবং মাঝারী নিচু(১৩%), বসতবাড়ী ও জলাভুমির পরিমান ২৭ ভাগ। মাটি পলি দোআশ, কিছু লবনাক্ত জৈব পর্দাথ কম এবং পিএইচ মান ৫.৬ রবি মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের সবজী, খরিপ-১ মৌসুমে বানা/রোপা আউশ এবং খরিপ-২ মৌসমমে রোপা আমন। কৃষি পরিবেশ অঞ্চল(AEZ) -২৪ সেন্টমাটিন কোরাল দ্বীপ নিয়ে এ এলাকা গঠিত। এখানকার ভূমি মাঝারী উচুঁ ৬৩% থেকে উচুঁ ৩৩% ধরনের। বসতবাড়ী ও জলাভূমির পরিমাণ ২ ভাগ। মাটি বেলে থেকে বেলে দোয়াশ, জৈব পদার্থ কম, পিএইচ মান৭.০ থেকে ৭.৫ , রবি মৌসুমে প্রধান ফসল মসলা, পিয়াজ, রসুন/অনাবাদী, খরিপ-১ মৌসুম অনাবাদী এবং খরিপ-২ মৌসুম অনাবদি/রোপা আমন, কৃষি পরিবেশ অঞ্চল (AEZ)- ২৯ নং প্রধানত খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, ককা্রবাজার, পাহাড়ী অঞ্চল এবং টিলাসমৃদ্ধ , প্রধানতঃ উচুঁূ ভূমি(৯২%)। বসতবাড়ী ও জলাভূমি ৫% মাট দোআশ, জৈব পদার্থ কম, পিএইচ মান৪.৮-৫.৫ রবি মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের সব্জী, মিষ্টি আলু, আ চাষ হয়। খীরপ-১ মৌসুমে সব্জী, আউশ বা অনাবদী, খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন চাষ করা হয়। সাগর, পাহাড় ও লবনাক্ত জমি হওয়ার কারনে এখানে চাষের আওতায় অধিক জমি আনা সম্ভব নয়। বিধায় কৃষি প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের সাথে মান সম্পন্ন উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার করে ফলন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। অত্র অঞ্চলের বিএডিসি সেই লÿ্য বাসত্মবায়নে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।বিএডিসি বীজ বিপণন বিভাগ চট্টগ্রাম ২টি বিক্রয় কেন্দ্র ,১১৪ জন বীজ ডিলার নেট ওয়ার্কের মাধ্যমে বিএডিসির মান সম্পন্ন বীজ কৃষকদের মাঝে সঠিক সময়ে নির্ধারিত মূল্যে পৌঁছিয়ে দিচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের আবাদকৃত জমির পরিমান ৪০৯৪১১ হেঃ এবং কৃষিতাত্ত্বিক বীজের চাহিদা ১৯৯৬৪.৩২ মেঃটন (সারনি-০১)। ২০১০-১১ সালে বিএডিসি চাহিদার মাত্র ৭% মানসম্পন্ন বীজ বিতরন করেছে। তবে অধিকাংশ কৃষকেরা ঐ মান সম্পন্ন বীজ থেকে বীজ রেখে পরবর্তী সময়ে চাষাবাদ করে । সারনীঃ-০১ চট্টগ্রাম অঞ্চলে আবাদী জমির পরিমান ও কৃষিতাত্ত্বিক বীজের চাহিদা। ক্রঃ নং ফসলের নাম আবাদী জমির পরিমান (হেক্টর) কৃষিতাত্ত্বিক বীজের চাহিদা (টনে) মমত্মব্য ১ ২ ৩ ৪ ৫ ১ বোরো ৭৬১০০ ৬৮১৭.২০ ২ রোপ ২৫৮৪৭০ ২১৩২.৫২ ৩ আউশ ৪১২৫০ ১৬৭৫ ৪ গম ৩৩ ১৩৭৫ ৫ আলু ৩৩৩০ ৬৭৯৪ ৬ ডাল ৩০৫৮ ০.৬০ ৭ তৈল ৩৯০০ ৭১৮.০০ ৮ ভূট্টা ৯০ ১৮৩.০০ ৯ শীতকালীন ১৭৫৮০ ৫৪.০০ ১০ গ্রীষ্মকালীন ৫৬০০ ২৬.০০ সর্বমোটঃ ৪০৯৪১১ ১৯৯৬৪.৩২ অপর পাতা দ্রষ্টব্য সারনী-০২ঃ বর্ষে বর্ষে বিএডিসি কর্তৃক চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানসম্পন্ন বীজ বিতরনের প্রতিবেদন। ক্র নং ফসলের নাম বিতরনের পরিমান (মেঃটন) মমত্মব্য ১৯৯০-০০ (গড়) ২০০০-০৫ (গড়) ২০০৬-০৭ ২০০৭-০৮ ২০০৮-০৯ ২০০৯-১০ ২০১০-১১ ১. আউশ ৩৯.০১ ৪৩.৪৯ ১২.০৫ ৮৫.৭২ ১০৮.৩০ ১০৭.১৯ ৯৪.৯৮ ২. আমন ১৯৯.৬৪ ১৬২.৯৭ ১৯৯.৭১ ৩৯১.৪৯ ৪৭৯.২৮ ৩৮১.২৬ ৫৭৬.৪৫ ৩. বোরো ১০৮.৪৪ ১৫৪.৭১ ২৫০.০৫ ৫০৬.৩৬ ৪২১০৭৪ ২৩২.২১ ৪৯৮.৪৭ ৪. আলু ৩৩.৪৮ ২১.৫৩ ৪৫.০০ ৫০.০০ ৪৫.০০ ৭৫.০০ ৯৬.০০ ৫. গম ২৬.৪৪ ১৫.৩৩ ২১.০০ ৩৪.৮০ ২৩.৫০ ৩০.০০ ৩০.০০ ৬. ভূট্টা ১.৪১ ৪.০২ ৩.০৪ ১.৭৯ ০.৯৮ ০.০১ ০.০৫৭ ৭. পাট - - ১৭.০০ - ৪.১৪ ০.৫০৪ ৩.০০ ৮. ডালজাতীয় ফসল ০.৭৬ ২.৭৮ ২.৪৫ ৪.৮৫ ৫.৫০ ১.১০ ৬৪.৫০ ৯. তৈলজাতীয় ফসল ১.৩৩ ১.০ ১.৫৮ ১.৪২ ৩.৭০ ০.৯০ ৭.০৪ ১০. শীতকালীন সব্জী ১.৩০ ০.১৬ ০.৭৯২ ০.৪০ ০.৮২৪ ১.৩২ ১.৭৬ গ্রীষ্মকালীন সব্জী ০.০৯৪ ০.১৮৫ ০.৩৪৩ ০.২১ ০.৬৬৪ ১.০০ ১.০০ সর্বমোটঃ ৪১১.৯০৪ ৪০৬.১৭৫ ৫৫৩.০১৫ ১০৭৭.০৪ ১০৯৩.০ ৮৩০.৫০ ১৩৭৩.২৫ বৃদ্ধির হার (১৯৯০-০০ সালের গড়ের তুলনায়) ১৩৬% ২৬২% ২৫০% ২০০% ৩৩৩% বর্ষে বর্ষে বিএডিসি কর্তৃক চট্টগ্রাম অঞ্চলে মান সম্পন্ন বীজ বিতরণ প্রতিবেদন (সারনীঃ-২) ও গ্রাফ -০১ পর্যালোচনা করলে পরিলÿÿত হয় যে ১৯৯০-২০০০ সাল গড় বিতরন ছিল ৪১১.৯০ মেঃ টন , ২০০০-২০০৫ সালে কিছুটা কম ৪০৬.১৭ মেঃ টন, কিন্তু ২০০৬-২০০৭ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৫৩.০১ মেঃ টন হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে বীজ বিতরন দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়ে ১০৭৭ মেঃ টনে উপনীত হয়েছে। ২০১০-১১ সালে সবের্বাচ্চ ১৩৭৩.২৩ মেঃ টনে দাড়িয়েছে যাহা ১৯৯০-২০০০ সালের গড় বিতরনের চেয়ে ৩৩৩% বেশী। সুতরাং বিএডিসি কর্তৃক মানসম্পন্ন বীজ বিতরন কতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে এ পরিসংখ্যান তার জলমত্ম উদাহরন। চট্টগ্রাম অঞ্চলের জাত ভিত্তিক বীজের চাহিদাঃ অত্র অঞ্চলে ২০১০-১১ সালে সর্বমোট ৯৫ মেঃ টন মান সম্পন্ন আউশ বীজ বিতরন করা হয়েছে্ তার মধ্যে বি আর ২৬ ও বি আর-১০ সবচেয়ে বেশী কৃষকের মাঝে গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছে(সারনি-০৩)। তাছাড়া বি আর-৩ জাতটি জনপ্রিয়। বি আর ২৬ এর সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় হওয়ার কারণ চাল লম্বা, চিকন ও এ্যামাইলেজ কম। তাছাড়া জাতটি অপেÿাকৃত নিচু জমিতে চাষের যোগ্য। আমন মৌসুমে সবচেয়ে বেশী বিতরন হয়েছে বি আর-১১ এবং তারপর ক্রমান্বয়ে ব্রিধান -৩৪, বি আর-১০, ব্রিধান-৩৩, ব্রি-আর-২২ । বি আর-১১ সবচেয়ে পুরানো জনপ্রিয়ত জাত। অন্যান্য অঞ্চলে জাতটির চাহিদা দিন দিন কমলেও অত্র অঞ্চলে এখন পর্যমত্ম চাহিদা রয়েছে (সারনী-০৪)। কারণ জাতটি স্বল্প আলোক সংবেদনশীল এবং সবচেয়ে বেশী ফলনশীল। জাতটি স্বল্প আলোক সংবেদনশীল হওয়ার কারণে এগুলোর বীজ যদি ১৫-২০জ্যেষ্ঠ পর্যমত্ম এগিয়ে এনে ২৫-৩০ দিনের চারা রোপন করা যায়, তাহলে রবি মৌসুমে ফসলের চাষাবাদ ব্যাহত হবে না। ব্রি ধান ৩৪ এর বীজের চাল সরম্ন ও সুগন্ধি হিসাবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্রি ধান ৩৩ এর বীজ ৫ই আষাঢ়ে বপন করে ২৫-৩০ দিনের মধ্যে চারা রোপন করলে আশ্বিনের শেষ সপ্তাহে ফসল কর্তন করা যাবে। ফলে আগাম রবি মৌসুমের ফসলের সাথে ক্রপিং পেটার্নের সাথে জাতটি ফিট করা সম্ভব হবে। বি আর ২২ জাত আলোক সংবেদনশীল। নাবি গুন থাকার জণ্য আউশ ও পাট কাটা জমি অথবা বন্যা পস্নাবন এলাকা যেখানে ১৫ ভাদ্রের পর রোপনের উপযোগী সেখানে এ জাত আবাদ করা যাবে। বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশী বিতরন হয়েছে ব্রি ধান ২৮, তারপর ক্রমান্বয়ে বি ধান ২৯, বি আর ১৬, বিআর ১৪, ব্রি ধান ৪৭(সারনি-০৫)। ব্রিধান ২৮ এর চাল মাঝারি চিকন ও সাদা, ব্রি ধান ২৯ এর ফলন অধিক। বি আর ১৬ চিকন ও সাদা ও ফলন খূব বেশী (৬.০ টন/হেঃ) । বি আর ১৪ এর ফলন প্রায় ৬ টন/হেঃ ,ব্রি ধান ৪৭ পানির লবনাক্ততা সহ্য করতে পারে। এ জাতটি চারা অবস্থায় ১২-১৪ ডি এস/মিটার (তিন সপ্তাহ পর্যমত্ম) পানির লবনাক্ততা সহ্য করতে পারে এবং বাকী জীবন কালের জন্য সহিষু মাত্রা ৬ ডিএস/মিটার। লবনাক্ত এলাকায় জাতটি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে ধান পাকলে কিছু ধান পড়ে যায় , তাই ৮০ ভাগ ধান পাকলে ফসল কর্তন করা যুক্তিযুক্ত হবে। অত্র অঞ্চলে বিএডিসির মান সম্পন্ন আলু, গম , ভূট্টা, ডাল, তৈল ও সব্জী বীজের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সবচেয়ে বেশী চাহিদা বেড়েছে ডাল বীজের । ১৯৯০-২০০০ পর্যমত্ম ডাল বীজের গড় বিতরন ছিল মাত্র ০.৭৬ মেঃটন , যাহা ২০১০-১১ সালে বিতরন হয়েছে ৬৪.৫০ মেঃ টন (সারনি-২)। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে ইহা প্রতীয়মান হচ্ছে যে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএডিসি কর্তৃক উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের মান সম্পন্ন বীজ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং ফসল ও জাত ভিত্তিক চাহিদা বাড়ছে। সারনী-০৩ঃ ২০১০-১১ সালে আউশ ধান বীজ বিতরনঃ ক্রঃ নং ফসলের নাম জাত বিতরন (মেঃ টন) ১ ২ ৩ ৪ ৩। আউশ বি আর - ৩ ৮.১৪ বি আর - ১৪ ৩৮.৩৩ বি আর - ২১ - বি আর - ২৪ ২.০০ বি আর - ২৬ ৪১.১৫ ব্রি ধান - ২৭ ০.৮০ ব্রি ধান - ৪২ ১.৫১ ব্রি ধান - ৪৩ ১.৮০ ব্রি ধান - ৪৮ ১.০৫ ৯৪.৯৮ মেঃ টন সারনী-০৪ঃ-২০১০-১১ সালে আমন ধান বীজ বিতরন ক্রঃ নং ফসলের নাম জাত বিতরন (মেঃ টন) ১ ২ ৩ ৪ ২। আমন বি আর - ১০ ৬৩.৭৭ বি আর - ১১ ১৯৬.৭৮ বি আর - ২২ ৪৪.৫০ বি আর - ২৩ ২৬.৭০ ব্রি ধান - ৩০ ২৮.৪৪ ব্রি ধান - ৩১ ৭.৬৯ ব্রি ধান - ৩২ ৫৭.৪৬ ব্রি ধান - ৩৩ ৬৮.৫৩ ব্রি ধান - ৩৪ ৩.১৯ ব্রি ধান - ৩৭ ০.৮২ ব্রি ধান - ৩৮ ০.০৭ ব্রি ধান - ৩৯ ২৩.৬৩ ব্রি ধান - ৪০ ১৩.৩৮ ব্রি ধান - ৪১ ১২.৪৬ ব্রি ধান - ৪৪ ৮.৩০ ব্রি ধান - ৪৬ ৩.৪৮ ব্রি ধান - ৪৯ ১৩.৯৬ বিনা - ৭ ৩.২৯ সর্বমোটঃ ৫৭৬.৪৫ সারনী ০৫ঃ-২০১০-১১ সালে বোরো ধান বীজ বিতরন ক্রঃ নং ফসলের নাম জাত বিতরন (মেঃ টন) ১ ২ ৩ ৪ ২। বোরোধান বি আর - ৩ ৩.০ বি আর - ১৪ ১৫.৯১ বি আর - ১৬ ২১.২৮ বি আর - ২৬ ১৪.০৬ ব্রি ধান - ২৮ ৩৫৩.৩০ ব্রি ধান - ২৯ ৫২.৩২ ব্রি ধান - ৩৬ ০.৪০ ব্রি ধান - ৪৫ - ব্রি ধান - ৪৭ ১০.৫৮ ব্রি ধান - ৫০ ৮.৫০ বিনা-০৬ ০.৩০ বিনা-০৭ - বিনা-০৮ ২.২০ হাইব্রীড এসএল -০৮ ১৬.৬২ সর্বমোটঃ ৪৯৮.৪৭ হাই ব্রীড (এস এল -এইট) ১৬.১২ হাই ব্রীড (এস এল -এইট) ১৬.১২ হাই ব্রীড (এস এল -এইট) ১৬.১২ হাই ব্রীড (এস এল -এইট) ১৬.১২ বিগত ৩ (তিন) বছরের বীজ সরবরাহঃ (মেঃ টন) ক্র নং ফসলের নাম চট্টগ্রাম ২০০৮-২০০৯ ২০০৯-২০১০ ২০১০-২০১১ ১ ২ ৩ ৪ ৫ ১ আউশ ধান বীজ ১০৮ ১০৭ ৯৫ ২ আমন ধান বীজ ৪৭৯ ৫৪৯ ৫৬১ ৩ বোরো ধান বীজ ৪৪১ ২৩২ ৪৬৫ ৪ আলু বীজ ৪৫ ৭৫ ৯৬ ৫ গম বীজ ৩৩ ৩০ ৩০ ৬ ভূট্টা বীজ ২ ১ ১ ৭ পাট বীজ ৪ ১ ৩ ৮ ডাল বীজ ৫ ২ ৬৪ ৯ তৈল বীজ ৪ ৫ ৭ ১০ শীতকালীন সব্জী বীজ ১.২৫ ১ ২ ১১ গ্রীস্মকালীন সব্জী বীজ ০.৭৫ ১ ১ সর্বমোট ১১২৩ ১০০৪ ১৩২৫ হাইব্রীড টমেটোর বীজ উৎপাদন কলাকৌশল টমেটোর হাইব্রীড বীজ উৎপাদন করতে হলে নিম্নলিখিত পদÿÿপ গুলো অনুসরন করতে হবেঃ-  মাতা পিতার লাইন তৈরী।  লাইন রÿনাবেÿন এবং পরিবর্দ্ধন।  বপন/রোপন এবং পরিচর্যা/রÿনাবেÿন।  ইমাসকুলেশন।  পলিনেশন।  মাতা পিতার লাইন তৈরীঃ পরম্নষ (পিতা) ও স্ত্রী (মাতা) এর দুইটি লাইন তৈরী করতে হবে। বিএডিসির হাইব্রীড বীজ উৎপাদন ÿÿত্রে এগুলো বি ত্র আর আই থেকে সরবরাহ করা হয়। যদি স্থ্রী (মাতা) এর লাইনে পরম্নষ বন্ধাত্ব হয় তাহলে হাইব্রীড তৈরীতে সুবিধা হয়। কারণ এÿÿত্রে ইমাসকুলেশন এর প্রয়োজন পড়ে না।  লাইন রÿনাবেÿন এবং পরিবর্দ্দন করাঃ এটা সাধারন ব্রিডার করে থাকে । বিএডিসি হাইব্রীড বীজ উৎপাদনের ÿÿত্রে বারি এ কাজ করছে। তবে প্যারেন্টাইল লাইন সরবরাহ দেয়ার পূর্বে এগুলোর পিউরিটি টেষ্ট করা প্রয়োজন।  রোপন/রÿনাবেÿনঃ স্ত্রী (মাতা) গাছের চেয়ে ২-৩ সপ্তাহ পুর্বে পরম্নষ গাছ বপন করতে হবে। যাতে করে পর্যাপ্ত পূংকেশর সরবরাহ নিশ্চিত থাকে স্ত্রী গাছে পলিনিশেন ও ফাটিলাইজেশনর জন্য। পুরম্নষ স্ত্রী অনুপাত ১ঃ৫ হওয়া বাঞ্চনীয়। পলিনেশনের পুর্বে মালচিং, আগাছা দমন, ট্রেনিং ও প্রনিং যথাসময়ে এবং যথা নিয়মে পরিচর্য্যা করতে হবে। স্ত্রী গাছে খুঁটি ব্যবহার করতে হবে। ইমাসকুলেশন শুরম্ন করার পূর্বে অসঙ্গঁতিপূর্ণ, অফ টাইপ এবং অকাখি্ঙত গাছ উপড়িয়ে ফেলে দিতে হবে।  ইমাসফুলেশনঃ ইমাসফুলেশন স্ত্রী গাছে করতে হবে। ইমাসকুলেশন হলো ফুল থেকে পুরম্নষ অঙ্গঁ সরিয়ে ফেলা । ইমাসকুলেশন শুরম্ন করার পুর্বে সেট হওয়া ফল, খোলা হয়ে যায় ফুল এবং অসমান বড় ফ্লাওয়ার বাড কেটে ফেলে দিতে হবে। ইমাসকুলেশন হয় নাই এমন ফুল বা বাড কেটে দিতে হবে। ইমাসফুলেশন এর উপযুক্ত সময় হলো যখন বৃতি থেকে প্রথম দল (পাঁপড়ি) এর আবির্ভাব ঘটে। কিমত্ম দল (পাঁপড়ি) হলুদ বা আংশিক হলুদ হওয়ার পুর্বে তা করতে হবে। ইমাসফুলেশন প্রক্রিয়া/কাজটি খুবই স্পর্শকাতর। সুতরাং কাজটি খুব সাবধানে করা উচিত। প্রথমে পাঁপড়ি বা দল খুলতে হবে। তারপর পুংকেশর টিউব এমন ভাবে খুলতে হবে যাতে করে কোন এনথার বা পরাগরেণূ না থাকে। অনেক সময় পাপড়ি এবং ইনথার টিউব এক সঙ্গেঁ সরানো হয়। এটি খুবই নিরাপদ কারণ এÿÿত্রে পিষ্টিল বা গর্ভদন্ড ÿতিগ্রস্থ হয় না। ইমাসফুলেশন এর পর টমেটো গাছের ফুলে কাগজের ব্যাগ দিয়ে মোড়ানোর প্রয়োজন নাই।  পরাগরে নু সংগ্রহ এবং পলিনেশনঃ স্ত্রী (মাতা) পস্নটের দূরে সুবিধাজনক রৌদ্রজ্জল জায়গায় পরম্নষ (পিতা) পস্নট তৈরী করতে হবে। যাতে করে সকাল বেলায় অসংখ্য ফুল ফুটে এবং পরাগরেনু সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। ফ্লিমের কোটায় অথবা পেট্টিডিসের নীচের দিকে ডাষ্টিং করে পরাগরেণু সংগ্রহ করা যেতে পারে।  পরাগ রেণু সংরÿনঃ যদি প্রয়োজন হয় অথবা বৃষ্টির দিনে পরাগরেণু পারাফিন এবং গস্নাসিন পেপারে মুখ বন্ধ করে রেখে সিলিকা সেল ডেসিকেটর বা ফ্রীজের নরমাল তাপমাত্রায় সংরÿন করা যায়।  পলিনেশনঃ খুব ভোরে পরাগরেনু সংগ্রহের সাথে সাথে ইমাসফুশেমন করা ফুলে পলিনেশন করতে হবে। এ ÿÿত্রে ২ টি বৃতি কেটে চিহ্ন দেয়াযেতে পারে যে এটি পলিনেশন করা হয়েছে।  গাছের পরিচর্য্যা (পলিনেশনের পরে)ঃ পলিনেশন করা ফুল ছাড়া নূতন নূতন বাড এবং ক্লাষ্টার উৎপন্ন হতে পারে। এ গুলো কেটে দিতে হবে।  ফল সংগ্রহ এবং বীজ সংগ্রহঃ ফল সম্পূর্ণ পেকে লাল বা আধা লাল হলে কর্তন করতে হবে। শুধু মাত্র চিহ্ন দেয়া ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।